Banglaconnect World News


গাদ্দাফির সঙ্গে সিআইএ, এমআই সিক্সের ঘনিষ্ঠতা

সম্প্রতি লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। এর আগে থেকেই নানাভাবে গাদ্দাফির সমালোচনা করে আসছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা। অথচ কয়েক বছর আগেও গাদ্দাফির 'কুখ্যাত' গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থার। ত্রিপোলির চাহিদামতো তারা লিবিয়ার নির্বাসিত বিরোধী নেতাদের তথ্য সরবরাহ করত গাদ্দাফি বাহিনীর কাছে। ত্রিপোলিতে গাদ্দাফি সরকারের পরিত্যক্ত ভবনের নথি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গাদ্দাফি ত্রিপোলি ছেড়ে পালানোর পর শুক্রবারই প্রথম বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে ঢোকার সুযোগ পায় একটি পর্যবেক্ষক দল। এ দলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কয়েকজন প্রতিনিধিও ছিলেন। তাঁরা ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির গোয়েন্দা বাহিনীর পরিত্যক্ত সদর দপ্তরে সিআইএ ও এমআই-সিঙ্রে সঙ্গে লিবীয় গোয়েন্দাদের সুসম্পর্কের প্রমাণসংবলিত কিছু নথি দেখতে পান। প্রতিনিধিদলটি ওই সব নথির ছবি তুলে নিয়ে আসে। পরে তা সরবরাহ করা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের কয়েকটি পত্রিকার কাছে। ত্রিপোলির দপ্তরে পাওয়া নথিতে দেখা যায়, ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্লউ বুশের সময় লিবিয়ার গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিআইএ)। এ সম্পর্ক এত জোরদার ছিল যে, সংস্থাটি নিজেদের গ্রেপ্তার করা সন্ত্রাসীদের ত্রিপোলির জেলে রাখতেও দ্বিধা করত না। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, অন্তত আটজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিবিয়ায় পাঠায় সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে লিবিয়ার গোয়েন্দারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করত। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কী প্রশ্ন করা হবে_তা নির্ধারণ করে দিত মার্কিন গোয়েন্দারা। নথিতে দেখা যায়, ২০০৪ সাল থেকে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থাও করে সিআইএ। দপ্তরে পাওয়া কয়েকটি চিঠিতেও সিআইএ ও গাদ্দাফির গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ পাওয়া যায়। একটি চিঠিতে লিবিয়ার তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান মুসা কুসাকে 'প্রিয় মুসা' সম্বোধন করেন সিআইএর শীর্ষ গোয়েন্দা স্টিফেন ক্যাপস। অপর এক চিঠিতে সিআইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, 'উভয় পক্ষের লাভের জন্য এ সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে লিবিয়ার বিরোধী নেতা আবু আবদুল্লাহ আল সাদিককে ত্রিপোলির হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানায় গাদ্দাফির গোয়েন্দা সংস্থা। এ অনুরোধ অনুসারে মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা আবু আবদুল্লাহকে লিবিয়ার জেলে পাঠায় সিআইএ। প্রাপ্ত নথির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিঙ্ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করত গাদ্দাফির গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে। লন্ডনে নির্বাসিত লিবিয়ার কিছু বিরোধী নেতার বিষয়ে নিয়মিত ত্রিপোলিকে তথ্যও দিত সংস্থাটি।

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক